স্বর্ণযুগ

2 জানুয়ারি , ২০২০

অন্যান্য সাধারণ বাচ্চাদের মতো আমি আমি টিভিতে কার্টুন দেখতে খুব পছন্দ করতাম (এবং এখনো করি) । সেই সময় অনেকরকম কার্টুন খুব প্রচলিত ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল টম অ্যান্ড জেরি, পোকেমন, বেন ১০ (আল্টিমেট এলিয়েন পর্যন্ত), মিকি মাউস, পাওয়ার পাফ্‌ গার্লস, ডেক্সটারশ ল্যাব, জাস্টিস লিগ , টিন টাইটানশ, ড্রাগন বল, স্কুবি-ডুবি-ডু, বেইব্লেড, ট্রান্সফরমার্স, মিঃ বিন, কিতেরেতসু, ডোরেমন, সিনচ্যান প্রভৃতি প্রভৃতি। আমার মতে সেই সময়টা ছিল কার্টুনের স্বর্ণযুগ। আমি এখানে আন্দাজমতো ২০০৩-৪ থেকে ২০১৩-১৪ সালের কথা বলছি।

আমারও সেইদিনটা এখনও স্পষ্ট মনে আছে যেদিন  কার্টুন নেটওয়ার্কের বড় লোগো টা থেকে ছোট্ট সি.এন. লোগোটাতে পরিবর্তিত হয়েছিল। কত নতুন নতুন কার্টুন চ্যানেল এসেছে আবার চলেও গেছে কিন্তু কার্টুন নেটওয়ার্কের একটা আলাদা জায়গা ছিল কার্টুনপ্রেমীদের মনে।

কিন্তু বর্তমান অবস্থা একেবারেই সব ওলট পালট করে দিয়েছে। এখন চ্যানেলে চ্যানেলে স্থান করে নিয়েছে বিভিন্ন অদ্ভুত ধরনের যতসব কার্টুন যেগুলা আমি সহ অনেক পুরনো কার্টুনপ্রেমীরা খুব একটা পছন্দ করে না। তবুও কোনোভাবে এইসব কার্টুন বাচ্চাদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। আমি এখানে দুএকটা নাম না উল্লেখ করলে কোন মতেই শান্তি পাবো না , প্রথমেই যে মডার্ন কার্টুনগুলির নাম মনে আসে সেগুলি হল , ছোটা ভীম , সেলফি উইথ বাজরাঙ্গি, মোটু পাতলু ,  বেন ১০ -এর নতুন সিজন গুলি প্রভৃতি প্রভৃতি। মনের খোলসা করে বলছি এইসব কার্টুনগুলির বেশিরভাগ এপিসোডই আমার একেবারেই পছন্দ নয়। এইগুলিকে আমার ভাষায় বলা চলে আত্মাহীন কার্টুন , মানে এদের মধ্যে কোনো গভীরতায় নেই। অনেকে আবার অভিযোগ করবে যে আমি এখানে যে কার্টুনগুলোর নাম উল্লেখ করেছি তাদের বেশিরভাগই ভারতে তৈরি কার্টুন , অর্থাৎ আমি দেশের জিনিস পছন্দ করি না , আমার গায়ে আবার দেশদ্রোহীর তকমাও লাগিয়ে দিতে পারে। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাইব বন্ধু , আমার কাছে জিনিসটা কোথায় তৈরি হচ্ছে তার থেকে বেশি তার গুনমান ও উপভোগ্যতা বেশি প্রয়োজনীয়। ভারতের বা নিজের দেশের বলেই যে সবকিছুকেই ভালো বলতে হবে আবার আমেরিকার বা অনা দেশের বলেই যে খারাপ বলতে হবে এমন কোনো মানে নেই।

তাই আশা করব, ভবিষ্যতে যাতে সত্যিকারের ভালো কার্টুন যাতে আবার টিভির পর্দায় ফিরে আসবে।

আমার মনে হয় আমাদের সেই সময়কার সমস্ত ছেলেমেয়ে যারা কার্টুন দেখে বড় হয়েছে তাদের চরিত্র গঠনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এইসব কার্টুনগুলির। তৎকালীন কার্টুনগুলি বিনোদনের সাথে সাথে বোধমূলক ও জ্ঞানমূলক অংশও বর্তমান ছিল যা বর্তমানের বেশিরভাগ কার্টুনেই দেখতে পাওয়া যায় না।

হিন্দি/ইংরেজি কার্টুন ছাড়াও সেইসময় বেশ কিছু বাংলা কার্টুনও বেশ প্রচলিত ছিল যেমন নন্টে ফন্টে, গোপাল ভাঁড়, বিক্রম বেতাল, পাণ্ডব গোয়েন্দা, বাঁটুল দি গ্রেট প্রভৃতি প্রভৃতি। এদের মধ্যে যদিও এখনো দুএকটা কার্টুন টিভির পর্দায় দেখানো হয় তবে দর্শক সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে, যদিও এর পেছনে বিভিন্ন কারণ আছে যেটা না হয় অন্য একদিন আলোচনা করা যাবে।


আমি আবার মাঝে মাঝে লক্ষ্য করেছি, বর্তমানের বিভিন্ন কার্টুনে বিভিন্ন সুপ্ত আজেন্ডা যা শিশুদের কোমল মস্তিষ্কে বিরূপ প্রভাবও ফেলতে পারে।


image

আজ দিনে রোদের প্রচুর তেজ ছিল । সন্ধ্যার দিকে ঠাণ্ডাটা বেশ ভালো আছে । ঠাণ্ডাটা মনে হয় আবার বাড়বে। কালকে আমাদের এখানের জয়চন্ডী পাহাড় মেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জি-বাংলা সারেগামাপা খ্যাত পৌষালি ব্যানার্জী এসেছিলেন তার সঙ্গীত পরিবেশনের জন্য কিন্তু ভিডিওতে লক্ষ্য করলাম তিনি বারবার জয়চন্ডী বলে বার বার উল্লেখ করছেন , পরে তার ফেসবুক পেজের একটা পোস্ট দেখে ব্যাপারটা বুঝলাম , তিনি মনে হয় ভেবেছেন যে শহরটির নাম জয়চন্ডী।

রঙিন সব চরিত্র / যেন হাজার ফুলের বাগান

~ পলাশ বাউরি

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমি ডিপ্রেশনে আক্রান্ত!

সমাজ ও সিনওলি

ধর্ষণ ও আমরা