পোস্টগুলি

ফেব্রুয়ারী, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মনের রোগে আক্রান্ত সমাজ

ছবি
 সমাজ এখন এক বিপদসঙ্কুল সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে কারণটা করোনা ভাইরাস নয়, বরং মানুষের অজ্ঞতা ও মুর্খামি! করোনা ভাইরাসের প্রকোপ একটু কমতে না কমতেই মানুষজন প্রায় সব স্বাস্থ্যবিধি শিকেই তুলে সর্বত্র ঘোরাফেরা করছে। কিন্তু বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, পাঁচটি রাজ্যে আরও খারাপ অবস্থা, সেখানে লকডাউনও শুরু হয়েছে।    প্রায় একবছর ধরে ঘরবন্দি থেকে মানুষের অবস্থা হয়েছিল খাঁচাবন্দী পাখির মতো। সাথে সাথে প্রকট হয় মানুষিক নানা ব্যধি। আসলে আমাদের সমাজে শারীরিক ব্যধিকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, মানুষিক ব্যধিকে তার সিকিভাগও গুরুত্ব দেওয়া হয়না। মানুষের সংস্পর্শহীন বহুদিন থাকার ফলে, মানুষের মনে নেমে আসে অবসাদ, উদ্বেগ বা একাকীত্বের কালো মেঘ।  এমনকি শুনলে অবাক হবে, এই লকডাউন কালে বিবাহ বিচ্ছেদের হার অনেক পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল , এর কারণ আমার মনে হয়, যখন কর্মক্ষেত্রগুলি খোলা ছিল তখন, স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সকালে বেরিয়ে যেত, এবং রাত্রে ঘর ফিরত। সারাদিন তেমন কথাবার্তাও হতো না, ফলে তাদের মধ্যে অজান্তেই একটা মানসিক দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে যায়। তারপর যখন, লকডাউনে সারাদিন তাদের একসঙ্গে কাটাতে হত, ফলে স্বাভাব

সমাজ ও পরিবার

ছবি
 কয়েকজন মানুষ নিয়ে একটি পরিবার; কয়েকটি পরিবার নিয়ে একটি সমাজ। যদিও পরিবারহীন সমাজও বর্তমান থাকতে পারে কিন্তু বেশিরভাগ তথাকথিত সমাজগুলি পরিবার নিয়েই গঠিত হয়। বর্তমান পরিবারব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে নতুন সমাজ সংস্থায়, তার আভাস আমরা পেতে শুরু করেছি এই শতাব্দী শুরুর বেশ আগে থেকেই। আজ আমরা এখানে এই বিষয় নিয়েই আলোচনা করবো, কিভাবে পরিবারব্যবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে এবং তার ফলে সমাজ ও মানবজীবনে তার কিরূপ প্রভাব পড়ছে।   এই একবিংশ শতাব্দী শুরুর আগে থেকেই আমরা দেখছি, বৃহৎ পরিবারগুলি ভেঙ্গে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু-পরিবার সৃষ্টি হচ্ছে। তার ফলে অনেক বিরূপ পড়েছে সমাজে; যেমন - বাসস্থানের চাহিদা বৃদ্ধি, বাজারে জিনিসপত্রের অধিক চাহিদা বৃদ্ধি, শিশুদের মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির ব্যপ্তি কম হওয়া, একাকীত্ব ও অবসাদে আক্রান্তে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ইত্যাদি ইত্যাদি।    এবার উপরোক্ত দফাগুলি বিস্তারিত আলোচনা করলে, ব্যপারগুলি আরও সহজভাবে বোঝাযাবে -  ১। বাসস্থানের চাহিদা বৃদ্ধি: প্রথমে চলো একটি উদাহরণ দেখে নেওয়া যাক। ধরো, লালুবাবুর দুই ছেলে, রমেশ ও সুরেশ। লালুবাবুর একটি বড় বাড়ি আছে ৪ ডেসিমিল জমির উপর এবং সেই বাড়িতে স্ত্রী ও

সমাজ ও সিনওলি

ছবি
আমি গতপরশু একটি সুন্দর তথ্যচিত্র দেখলাম - "Secrets of Sinauli"। সিনওলি গ্রামে আবিষ্কৃত বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান নিয়েই এই তথ্যচিত্র এবং এই আবিষ্কার আমাদের বর্তমান ভারত তথা ভারতীয় উপমহাদেশকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিকে কিভাবে প্রভাবিত করে তাও এই তথ্যচিত্রে আলোচনা করা হয়। সত্যি কথা বলতে আমার এটি অসাধারণ লেগেছে; এর দ্বারা আমার অতীতের ভারতবর্ষ সম্পর্কে যেরকম মানসচিত্র ছিল তা অনেকটা বদলে গেছে সাথে সাথে বর্তমানকেও নতুন আঙ্গিকে দেখতে শিখেছি।    সিনওলি হল উত্তরপ্রদেশের একটি গ্রাম; দিল্লি থেকে যার দূরত্ব মাত্র ৬৭ কিলোমিটার। সেই এক প্রত্যন্ত গ্রামে একদিন যখন কৃষকরা মাটি খুঁড়ছিল হঠাৎ তারা মাটির ভিতর থেকে খুঁজে পেল অনেক তামার পাত্র , সোনার গয়না ইত্যাদি। চারিদিকে খবর ছড়িয়ে গেল, প্রশাসনের কাছেও খবর গেল। ২০০৫ সালে সেখানে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই) এসে পৌঁছাল। তারা বিশেষ কিছু স্থান নির্বাচন করে এবং সেই স্থানগুলি সুরক্ষিত করা হয়, কারণ সেখানকার  সাধারণ জনগণ ভেবেছিল হয়তো কোনো দেবদেবীর আশীর্বাদের ফলে এইসব সোনার,তামার জিনিসপত্র পাওয়া যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ খোঁড়াখুঁড়ি করে পুরাতাত্ত্বি

জাতীয় সংগীত ও জাতীয় গান

ছবি
 বেশকিছুদিন আগে ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে হতে হঠাৎ চোখে পড়ল আমার প্রাক্তন হাই স্কুলের ফেসবুক পেজটির একটি পোস্ট। পোস্টটি ছিল একটি কবিতা, সেই কবিতাটি লিখেছেন আমাদের বিদ্যালয়েরই একজন শিক্ষিকা। কাব্যিক চুলচেরা বিশ্লেষণ আমি করতে চাই না, তবে সাধারণ মানুষের চোখে বেশ ভালোই লাগবে কবিতাটি। তবে কবিতাটির ষষ্ঠ লাইনেই একটি ত্রুটি চোখে পড়ে আমার - সেখানে বলা হচ্ছে, স্কুলের প্রার্থনাতে নাকি 'জাতীয় গান' গাওয়া হয়!  [তবে আমি আগেই বলে রাখতে চাই, ওই শিক্ষিকার ত্রুটি ধরে আমি নিজেকে মহান বা জ্ঞানী প্রতিপন্ন করতে চাই না। আমার উদ্দেশ্য খুব সরল - কাব্যকে ত্রুটিহীন করা। ]     প্রথম দেখাতে অনেকরই মনে হতে পারে, ঠিকই তো স্কুলের প্রার্থনাতে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয় এটাতে ভুল কোথায়। এবার বলে রাখি - আমাদের দেশের জাতীয় সংগীত ও জাতীয় গান কিন্তু আলাদা আলদা। সঙ্গীত ও গান শব্দদুটি সমার্থক অর্থে ব্যবহার করা হলেও আমাদের জাতীয় সংগীত ও জাতীয় গান কিন্তু আলাদা আলাদা! ইংরেজি প্রতিশব্দ দেখলেও ব্যপারটা পরিষ্কার বোঝা যাবে। জাতীয় সংগীত এর ইংরাজি প্রতিশব্দ হল National anthem অন্যদিকে জাতীয় গান এর ইংরাজি প্রতিশব্

সমাজ ও দ্বৈততা ত্রুটি

ছবি
বর্তমানের আধুনিক মানুষের জন্ম প্রায় ৩ লক্ষ বছর আগে আফ্রিকা থেকে। মানুষের জন্মকাল থেকেই বিভিন্ন সংগ্রাম , পরিবর্তন ও বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষ আজকের এই "আধুনিক" মানুষের পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে এই লম্বা সফরে আমাদের মানব সমাজে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণ গঠেছে। তবে মানব সমাজের সূচনা কাল থেকেই মানুষের মনের গভীরে কিছু ত্রুটিও মিশে রয়ে গেছে - তেমনি একটি ত্রুটি হল দ্বৈততা (Duality) ত্রুটি।    দ্বৈততা বা Duality জিনিসটা কী? দ্বৈততার উল্লেখ গণিত, সাহিত্য, দর্শন ও বিজ্ঞানে অনেকক্ষেত্রেই পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের এখানে আলোচনার বিষয় হল মানুষের মনের অন্তরে থাকা দ্বৈততার। মানুষের মনের দ্বৈততা কিন্তু কিছুটা অদ্ভুত রকমের, আমাদের চিন্তাভাবনা দ্বৈততা দ্বারা আক্রান্ত , ফলে আমরা কাছে সমস্ত বস্তু, শক্তি ও পদার্থকে একটি জোড়ের সমষ্টি বলে মনে হয় । আমাদের কাছে সমস্ত কিছুই একটি মুদ্রা আর তার আছে মাত্র দুটি পিঠ।  যেমন, তাপমাত্রাকে আমরা শুধু দেখি ঠাণ্ডা বা গরম হিসাবে, কোনো মানুষের বা প্রাণীর চরিত্রকে আমরা দেখি দুভাবে ভালো বা খারাপ, কোনো বস্তুর সৌন্দর্যকে আমরা দেখি সুন্দর বা কুৎসিত হিসাবে ইত্যাদি ইত্যাদি।  আ

সমাজ ও সম্পর্ক

ছবি
 সমাজকে টিকিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হল সমাজের বাসিন্দাদের মধ্যে সম্পর্ক। সমাজের অন্তরে সম্পর্ক ভিন্ন ভিন্ন রকমের, ভিন্ন রঙের, ভিন্ন ঘনত্বের। কিন্তু সমাজের জন্য প্রতিটির অস্তিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে সম্পর্ক হল একটা লম্বা চেনের মতো, যা সমাজের খুঁটিগুলিকে শক্তপোক্ত ভাবে ধরে রাখে। সমাজ সংস্থাকে চলমান রাখার জন্য সম্পর্কের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সম্পর্ক অনেক রকমের হতে পারে - পরিবারের সম্পর্ক, বন্ধুত্বের সম্পর্ক, ভালোবাসার সম্পর্ক, প্রেমের সম্পর্ক, কর্মসূত্রের সম্পর্ক, পথের সম্পর্ক ইত্যাদি ইত্যাদি।    পরিবারের সম্পর্ক হলে একটি পরিবারের অন্তর্গত মানুষের মধ্যে সম্পর্ক , তা হতে পারে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক  সম্পর্ক, মা-বাবা সন্তানের সম্পর্ক কিম্বা আরও কোনো আত্মীয়স্বজনের মধ্যে সম্পর্ক। এই ধরনের সম্পর্কের সৃষ্টি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুর জন্মকাল থেকেই সৃষ্টি হয় তাই সম্পর্কের উন্নতিসাধনের চেষ্টা কোনো পক্ষ থেকেই সাধারণত দেখা যায়না। বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস করেন যে রক্তের সম্পর্কের ফলেই একধরনের টান বা আত্মিক সম্পর্ক আপনা থেকেই গড়ে উঠে তাই সম্পর্ক তৈরি করার বা উন্নতি করার কোনো প্রয়োজন হয়না। 

সমাজ ও শিক্ষা

ছবি
 শিক্ষা সমাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। শিক্ষা ছাড়া সমাজের পরিবর্তন বা অগ্রগতি কোনটাই সম্ভব নয়। কিন্তু শিক্ষা বলতে শুধু তাত্ত্বিকজ্ঞানকেই শিক্ষা বলা চলে না, শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয় - যদি তা হয় তাহলে সেই শিক্ষা সম্পূর্ণ নয়, তাকে বরং ছদ্মশিক্ষা বলা চলে এবং এই শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিদের ছদ্মশিক্ষিত বলা চলে। যতক্ষণ না শিক্ষার মধ্যে সমাজে বা এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কিছু সাধারণ কলা কৌশল না শেখানো হয় ততক্ষণ তাকে সম্পূর্ণ শিক্ষা বলা চলে না।  সেই অর্থে বলা চলে, আমাদের দেশের বিদ্যালয়গুলিতে যে শিক্ষাদান করা হয়, সেই শিক্ষা সম্পূর্ণ নয়। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে যে বিষয়গুলি অতিশীঘ্রই সংযুক্ত করা উচিত সেগুলি হল - শিক্ষার গুরুত্ব, যৌন শিক্ষা, প্রযুক্তি শিক্ষা, নিজের খাদ্য নিজে উৎপাদন করার শিক্ষা, প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে শিক্ষা, সমতার শিক্ষা এছাড়া একজন শিশু বড় হয়ে যা যা সমস্যার বা নতুন কিছুর সম্মুখীন হতে পারে তার শিক্ষাও প্রদান করা উচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে।  যেকোনো একটা স্কুল যাওয়া বাচ্চাকে ধরে জিজ্ঞেস করা হয় , তোমার স্কুল যেতে কেমন লাগে? মুখে যা কিছুই বলুক,